বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং, রাত ১০:৪৭
শিরোনাম :
বরিশালে সাগরদী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনকে ফের হয়রানী, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি! ২৮ অক্টোবর ইতিহাসের এক জঘন্যতম কালো অধ্যায়: অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকারের: আইসিটি মন্ত্রী সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ ও ডিজিটাল সচেতনতায় নলছিটিতে সংলাপ অনুষ্ঠিত বরিশালে সুদ ও তাবিজ বিতর্কে মসজিদের ইমাম: পরিবর্তনের দাবি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর :কনস্যুলেটের দুর্বলতা ছিল কিনা,জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি ইরাকের কুর্দিস্তানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক মক্কা ও জেদ্দায় সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব

কুড়িগ্রামে বন্যায় প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

এজি লাভলু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম জেলার ৩৩ হাজার ৪৪২ হেক্টর আবাদি সবজির মধ্যে ১৯ হাজার ৬৩৮ হেক্টর আবাদি সবজির ফসল বিনষ্ট হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দেড়শ’ কোটি টাকা।

ভয়াবহ বন্যার তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়েছে চরাঞ্চল সহ নিম্নাঞ্চল এলাকার বানভাসি মানুষের স্বপ্ন। পানি কমছে ধীরগতিতে। সেই সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে উঠছে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। উজানের পাহাড়ী ঢল কেড়ে নিয়েছে হাজারো কৃষকের ফসল। হাজার হাজার পুকুর তলিয়ে দিশেহারা মাছ চাষিরা। রাস্তা, সেতু ও কালভার্ট বিধ্বস্ত হওয়ায় বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা। বানভাসিদের ঘুরে দাঁড়াতে এখন প্রয়োজন পুনর্বাসন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কৃষি প্রণোদনা না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছে কৃষকরা।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি বছর অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। যার ফলে মাঠে ৩৩ হাজার ৪৪২ হেক্টর আবাদি সবজির মধ্যে ১৯ হাজার ৬৩৮ হেক্টও আবাদি ফসল সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়। এতে টাকায় ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫৬ কোটি ৩৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩২৪ জন।

সদর উপজেলার নয়ারহাট এলাকার কৃষক তৈয়ব আলী বলেন- ১ লক্ষ টাকা ঋণ করে জমিত পটল, ঢেড়স, লালশাক, মরিচ লাগিয়েছেন। কিন্তু বন্যায় সবকিছু এখন পঁচে গেছে। ঋণের টাকা কিভাবে পরিশোধ করবেন তার নেই কোন উপায়। এখন শুধুই হতাশায় দিন পার করছেন তিনি।

তিনি জানান, বন্যা না হলে এবার তিনি উৎপাদিত সবজি ন্যুনতম ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারতেন। কিন্তু সে আশা গুরে বালিতে পরিণত হয়েছে।
সদর উপজেলার কৃষক আফতার আলী জানান, সারা বছর মরিচ বিক্রি করে সংসার চালাই। এ ব্যাপারের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী আমার ৩ একর জমির মরিচ ক্ষেত পঁচে গেছে। যা থেকে ১২ লক্ষ টাকা আয় হতো।

এ বিষয়ে কথা হলে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান জানান, ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকার কৃষি বিভাগ থেকে নতুন করে ২ একর জমিতে কমিউনিটি বীজতলার মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া যারা রবি শস্য লাগিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের তালিকা করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই তাদের কৃষি প্রণোদনা দেয়া হবে।